খুব করে একটা বাড়ির শখ ছিল। ছিমছাম, মেঘ ছুঁই ছুঁই, আকাশের অনেকটা কাছে,
পাহাড়ের গা ঘেষে একটা বাড়ি। বুনো লতাপাতা বাড়তে বাড়তে বাড়ির কার্নিশ ছুঁয়ে
যাবে, শ্রাবণের জলধারা বাড়ির ছাদ চুইয়ে চুইয়ে পড়ে মিশে যাবে নিচের নদীর
সাথে।
কেমোফ্লেজের মত সবুজের সাথে মিশে যাবে বাড়ির প্রাচীর গুলো। খুব করে শখ ছিল। বাবা হেসে উড়িয়ে দিতেন। বলতেন, “জয় তব নবীন। স্বপ্ন যেন স্বপ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে,” আমি মুষড়ে যেতাম। বাবাকে একশ একটা অভিশাপে জর্জরিত করে বেরিয়ে পড়তাম ঘিঞ্জি হয়ে জন্মানো বুনোলতার উদ্দেশ্যে।
শখটাকে আকড়ে বাঁচতে চাইছিলাম। আমার চাওয়ায় বেশ খানিকটা অক্সিজেন দান করেছিল ইমা নামের ছোট্ট একটা মেয়ে। আমি যখনই মন খুলে আমার স্বপ্নের কথা বলতাম, সে তার গোলগোল চোখগুলো বড় বড় করে অবাক হয়ে শুনত। কথার শেষে জোর দিয়ে বলত, “হবে না কেন? একশো বার হবে, হাজার-কোটি বার হবে,” ছোট ওই বয়সে ছোট ওই মেয়েটার কথা আমাকে মুগ্ধ করত। জানতামই না, অজান্তেই কখন ওই গোল গোল চোখের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।
একটু বড় হতেই বুনো গন্ধটা শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলতে হল। আদিগন্ত বিস্তৃত তৃণভূমির চূড়ায় দাড়িয়ে শ্বাস নিয়ে অভ্যাস ছিল, অথচ কিনা জোরপূর্বক শিখতে হল সীসাযুক্ত বিষাক্ত বাতাসে নিশ্বাসকার্য। ঢাকা শহরের অলিতে-গলিতে জীবনের তাগিদে যখন ছুটতাম, বারবার শুধু পাহাড়ের গায়ে লেপ্টে থাকা একটা বাড়ির ছবি ভেসে উঠত চোখের সামনে। অসীম খাদের ওপর ঝোলানো বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকা একটা মেয়ের ছবিও ভাসত তাতে, মেয়েটার মুখটা দেখতে পাইনি। কি এক ছেলেমানুষি অভিমানে সে মুখ আর আমার দিকে ফেরে না।
মাঝেমধ্যে বড় ছুটিতে বাড়ি যেতাম, দুই তিন দিন ঘরে বসে থাকা আরকি। সেবার পূজার ছুটিতে ইমার খোঁজখবর শুরু করলাম। ছুটছাট আত্মীয়ের সাথে কথা বলে জানা গেল, সেয়ানা মেয়েকে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় না রেখে শহরে নিয়ে গিয়েছে ওর বাবা-মা। আমি মনে মনে হাসলাম, সময় কি করে জানি মুহূর্তগুলোকে আলাদা রাস্তায় নিয়ে চলে যায়। ইমা নিশ্চয়ই আমার সেই বাড়িটার কথা ভাবে। অথচ কালের পরিক্রমায় কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে সেই শখ কিংবা স্বপ্ন।
শেষ বর্ষে হঠাত
ই একদিন আমার নামে চিঠি এল। খুলনার কোন এক জায়গা থেকে পাঠানো, সুন্দর খামের ওপর গোল গোল করে লেখা- সতীর্থ। লেখাটা দেখেই গোল গোল চোখের একটা মেয়ের ছবি ভেসে ওঠে, যে কিনা মস্ত অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে অসীম খাদের ওপর কোন ঝুলন্ত বারান্দায়। আমি চিঠিটা খুললাম।
তীর্থ,
স্মৃতি ব্যাপারটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার অন্ত নেই। আরও একটু বেশি যদি স্মৃতি ধরে রাখা যেত, দুনিয়াই যেন পাল্টে যেত। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, মানুষের স্মৃতি সৃষ্টিকালে যা ছিল, আজও তাই আছে। সেই নূন্যতম স্মৃতিপটে একজন মানুষকে মনে রাখা এমন কোন কঠিন ব্যাপার ছিল না।
সেই সহজ কাজটাকেই অনায়াসে কঠিন করে দিয়ে দিব্যি আমাকে ভুলে বসে আছো? কম খুঁজেছি কি? অপেক্ষাও কি বা কম করেছি? আমি না হয় ঠিকানা জানতাম না, তুমি কি নিজের বাড়িটাও ভুলে ছিলে?
একসময় যখন মনে হল সময়ও আজ বিরক্ত, তখন বাবার সাথে জেদ করে চলে এলাম ওই দুর্গম মন খারাপের দেশ ছেড়ে।
কত সকাল ওই চূড়ায় উঠে একা একা সূর্যের উদয় দেখেছি জানো? মেঘের সাথে আমার কত ভাল সখ্যতা ছিল। সময় ক্ষেপনে সেই সখ্যতায়ও ধুলো জমল। তারপর দেখতে দেখতে একদিন মেঘেরা আসা বন্ধ করে দিল।
অনেক রাতেই আশা নিয়ে ঘুমোতে যেতাম, সকালে উঠেই বুঝি সেই পরিচিত ডাক শুনব। আবার সেই বাড়িটার গল্প শুনব। তোমার সেই বাড়ির স্বপ্ন কিন্তু আজও আমার চোখে ভাসে।
তুমি অনন্যসাধারণ স্বপ্ন দেখেছিলে। অথচ আমার স্বপ্নটা ছিল নিতান্তই সাদামাটা। তুমি কল্পনাতীত একটা ঘরের ইট বুনেছিলে, আর আমি আমার ঘর বুনেছিলাম তোমাকে দিয়ে। মাঝে মাঝে চাইতাম তোমার স্বপ্নের ঘরে একটুখানি ঠাই।
কিছুই হয়নি, হবেও না। পরের শুক্রবারই বিয়ের পিড়িতে বসছি। সুপাত্র। অনেক পড়াশোনা, অনেক বড় চাকুরি, অনেক টাকাপয়সা। শুধু পাহাড়ের গায়ে কেন, চাইলে হয়তো চাঁদেও আমার জন্য বাড়ি করে দিতে পারে। আমার নাম বলতে পাগল। ছুটে যাওয়া ঘুড়ির পেছনে ছুটতে গিয়ে আর নাটাই হাতছাড়া করতে চাইলাম না। তুমি ভাল থেকো। এখনো আমি চাই, তোমার বাড়ির স্বপ্নটা পূরণ হোক। শুধু একবার ভেব, সেই বাড়ির রাজ্যে তুমিই হবে পৃথিবীর সবচাইতে সঙ্গহীন মানুষ।
ইতি
গোল গোল চোখের সেই মেয়েটি
চিঠি শেষ করে আমি একবার হাসি, একবার কাঁদি। চোখের জল গুলো গোল গোল হয়ে আরও অনেক গোল গোল জলের শুকিয়ে যাওয়া দাগের সাথে মিশে যায়।
সেই রাতেই আমি ছুটে গিয়েছিলাম খুলনা শহরে। বৃষ্টির ভেজা বাতাসে শ্বাস টানতে টানতে খুঁজে বেড়িয়েছি গোল চোখের মেয়েটিকে। মনের ভেতর অগাধ বিশ্বাস ছিল, আমাকে শেষবার দেখা না দিয়ে সে যাবে না। অনেক পরিশ্রমের পর যখন তাকে দোতলা এক ঘুপচি বাসার বারান্দায় খুঁজে পেলাম, দৃষ্টি তখন তার মুক্ত আকাশে নিবন্ধিত। আমার দিকে না তাকিয়েই সে আওড়ায়-
চেয়েছিলাম বন হব,
তোমার অস্তিত্বে মিশে যেতে।
বৃষ্টিও হতে চেয়েছি
তোমার চালার সংকীর্ণতায়।
কিংবা উষার রক্তিম সূর্য,
তোমার শরীরকে ছুঁয়ে দিতে রোজ।
অথচ হয়েছি আজ বালুবেলার নিঃসঙ্গ কাঁকড়া,
জোয়ারের সাথে প্রতিমুহূর্তে বেঁচে থাকার নির্মম যুদ্ধ।
তবুও চোখ মেলে আকাশকে দেখতে পাই,
আমাদের পুরোনো সেই সময়ের সঙ্গী।
ইমার চোখে কোন জল দেখি না, শুধুই ভয়ানক এক নির্লিপ্ততা। বাতাসে রেশমি চুলগুলো উড়ে উড়ে কাধের দুপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আমি ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ি, তারপর বলি-
আমিও তো ডাহুক হতে চেয়েছি,
কিংবা সাতসকালের কোকিল
তোমার কাধের একটু স্পর্শ পাবার আশায়।
কখনো চেয়েছি শিশির হব,
তোমার হাতের একটু স্পর্শ পাবার আশায়।
বারংবার মিশে গিয়েছি ঝরণাধারায়,
আর মিশেছিলাম সমুদ্রের নোনাজলে,
তোমার যুদ্ধের প্রতীকি জয়গান গাবার আশায়।
শেষকথাঃ
আমাদের বাড়িটা এখনো পুরোপুরি তৈরী হয়নি। আমি শক্ত করে গিরিখাদের ওপর একটা ঝুলন্ত বারান্দা বসিয়ে দিয়েছি। কোনদিন ফিরতে দেরি হলেই ইমা গাল ফুলিয়ে অন্যদিক মুখ করে ওই বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকে। মান ভাঙাতে তখন হয়তো কোন একটা উপহার ধরে দিতে হয়। কখনো বনের রাস্তায় পড়ে থাকা ঘাসফুল, কখনো বাসা ভেঙে পড়ে যাওয়া শালিকের ছানা। ইমা সেই উপহার পেয়ে আহ্লাদে আটখানা হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে।
খুব করে একটা বাড়ির শখ ছিল, অথচ আমি আজ ঘর পেয়েছি। খুব ছিমছাম, সুন্দর একটা ঘর।--- রওনক ইসলাম
কেমোফ্লেজের মত সবুজের সাথে মিশে যাবে বাড়ির প্রাচীর গুলো। খুব করে শখ ছিল। বাবা হেসে উড়িয়ে দিতেন। বলতেন, “জয় তব নবীন। স্বপ্ন যেন স্বপ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে,” আমি মুষড়ে যেতাম। বাবাকে একশ একটা অভিশাপে জর্জরিত করে বেরিয়ে পড়তাম ঘিঞ্জি হয়ে জন্মানো বুনোলতার উদ্দেশ্যে।
শখটাকে আকড়ে বাঁচতে চাইছিলাম। আমার চাওয়ায় বেশ খানিকটা অক্সিজেন দান করেছিল ইমা নামের ছোট্ট একটা মেয়ে। আমি যখনই মন খুলে আমার স্বপ্নের কথা বলতাম, সে তার গোলগোল চোখগুলো বড় বড় করে অবাক হয়ে শুনত। কথার শেষে জোর দিয়ে বলত, “হবে না কেন? একশো বার হবে, হাজার-কোটি বার হবে,” ছোট ওই বয়সে ছোট ওই মেয়েটার কথা আমাকে মুগ্ধ করত। জানতামই না, অজান্তেই কখন ওই গোল গোল চোখের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।
একটু বড় হতেই বুনো গন্ধটা শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলতে হল। আদিগন্ত বিস্তৃত তৃণভূমির চূড়ায় দাড়িয়ে শ্বাস নিয়ে অভ্যাস ছিল, অথচ কিনা জোরপূর্বক শিখতে হল সীসাযুক্ত বিষাক্ত বাতাসে নিশ্বাসকার্য। ঢাকা শহরের অলিতে-গলিতে জীবনের তাগিদে যখন ছুটতাম, বারবার শুধু পাহাড়ের গায়ে লেপ্টে থাকা একটা বাড়ির ছবি ভেসে উঠত চোখের সামনে। অসীম খাদের ওপর ঝোলানো বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকা একটা মেয়ের ছবিও ভাসত তাতে, মেয়েটার মুখটা দেখতে পাইনি। কি এক ছেলেমানুষি অভিমানে সে মুখ আর আমার দিকে ফেরে না।
মাঝেমধ্যে বড় ছুটিতে বাড়ি যেতাম, দুই তিন দিন ঘরে বসে থাকা আরকি। সেবার পূজার ছুটিতে ইমার খোঁজখবর শুরু করলাম। ছুটছাট আত্মীয়ের সাথে কথা বলে জানা গেল, সেয়ানা মেয়েকে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় না রেখে শহরে নিয়ে গিয়েছে ওর বাবা-মা। আমি মনে মনে হাসলাম, সময় কি করে জানি মুহূর্তগুলোকে আলাদা রাস্তায় নিয়ে চলে যায়। ইমা নিশ্চয়ই আমার সেই বাড়িটার কথা ভাবে। অথচ কালের পরিক্রমায় কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে সেই শখ কিংবা স্বপ্ন।
শেষ বর্ষে হঠাত
ই একদিন আমার নামে চিঠি এল। খুলনার কোন এক জায়গা থেকে পাঠানো, সুন্দর খামের ওপর গোল গোল করে লেখা- সতীর্থ। লেখাটা দেখেই গোল গোল চোখের একটা মেয়ের ছবি ভেসে ওঠে, যে কিনা মস্ত অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে অসীম খাদের ওপর কোন ঝুলন্ত বারান্দায়। আমি চিঠিটা খুললাম।
তীর্থ,
স্মৃতি ব্যাপারটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার অন্ত নেই। আরও একটু বেশি যদি স্মৃতি ধরে রাখা যেত, দুনিয়াই যেন পাল্টে যেত। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, মানুষের স্মৃতি সৃষ্টিকালে যা ছিল, আজও তাই আছে। সেই নূন্যতম স্মৃতিপটে একজন মানুষকে মনে রাখা এমন কোন কঠিন ব্যাপার ছিল না।
সেই সহজ কাজটাকেই অনায়াসে কঠিন করে দিয়ে দিব্যি আমাকে ভুলে বসে আছো? কম খুঁজেছি কি? অপেক্ষাও কি বা কম করেছি? আমি না হয় ঠিকানা জানতাম না, তুমি কি নিজের বাড়িটাও ভুলে ছিলে?
একসময় যখন মনে হল সময়ও আজ বিরক্ত, তখন বাবার সাথে জেদ করে চলে এলাম ওই দুর্গম মন খারাপের দেশ ছেড়ে।
কত সকাল ওই চূড়ায় উঠে একা একা সূর্যের উদয় দেখেছি জানো? মেঘের সাথে আমার কত ভাল সখ্যতা ছিল। সময় ক্ষেপনে সেই সখ্যতায়ও ধুলো জমল। তারপর দেখতে দেখতে একদিন মেঘেরা আসা বন্ধ করে দিল।
অনেক রাতেই আশা নিয়ে ঘুমোতে যেতাম, সকালে উঠেই বুঝি সেই পরিচিত ডাক শুনব। আবার সেই বাড়িটার গল্প শুনব। তোমার সেই বাড়ির স্বপ্ন কিন্তু আজও আমার চোখে ভাসে।
তুমি অনন্যসাধারণ স্বপ্ন দেখেছিলে। অথচ আমার স্বপ্নটা ছিল নিতান্তই সাদামাটা। তুমি কল্পনাতীত একটা ঘরের ইট বুনেছিলে, আর আমি আমার ঘর বুনেছিলাম তোমাকে দিয়ে। মাঝে মাঝে চাইতাম তোমার স্বপ্নের ঘরে একটুখানি ঠাই।
কিছুই হয়নি, হবেও না। পরের শুক্রবারই বিয়ের পিড়িতে বসছি। সুপাত্র। অনেক পড়াশোনা, অনেক বড় চাকুরি, অনেক টাকাপয়সা। শুধু পাহাড়ের গায়ে কেন, চাইলে হয়তো চাঁদেও আমার জন্য বাড়ি করে দিতে পারে। আমার নাম বলতে পাগল। ছুটে যাওয়া ঘুড়ির পেছনে ছুটতে গিয়ে আর নাটাই হাতছাড়া করতে চাইলাম না। তুমি ভাল থেকো। এখনো আমি চাই, তোমার বাড়ির স্বপ্নটা পূরণ হোক। শুধু একবার ভেব, সেই বাড়ির রাজ্যে তুমিই হবে পৃথিবীর সবচাইতে সঙ্গহীন মানুষ।
ইতি
গোল গোল চোখের সেই মেয়েটি
চিঠি শেষ করে আমি একবার হাসি, একবার কাঁদি। চোখের জল গুলো গোল গোল হয়ে আরও অনেক গোল গোল জলের শুকিয়ে যাওয়া দাগের সাথে মিশে যায়।
সেই রাতেই আমি ছুটে গিয়েছিলাম খুলনা শহরে। বৃষ্টির ভেজা বাতাসে শ্বাস টানতে টানতে খুঁজে বেড়িয়েছি গোল চোখের মেয়েটিকে। মনের ভেতর অগাধ বিশ্বাস ছিল, আমাকে শেষবার দেখা না দিয়ে সে যাবে না। অনেক পরিশ্রমের পর যখন তাকে দোতলা এক ঘুপচি বাসার বারান্দায় খুঁজে পেলাম, দৃষ্টি তখন তার মুক্ত আকাশে নিবন্ধিত। আমার দিকে না তাকিয়েই সে আওড়ায়-
চেয়েছিলাম বন হব,
তোমার অস্তিত্বে মিশে যেতে।
বৃষ্টিও হতে চেয়েছি
তোমার চালার সংকীর্ণতায়।
কিংবা উষার রক্তিম সূর্য,
তোমার শরীরকে ছুঁয়ে দিতে রোজ।
অথচ হয়েছি আজ বালুবেলার নিঃসঙ্গ কাঁকড়া,
জোয়ারের সাথে প্রতিমুহূর্তে বেঁচে থাকার নির্মম যুদ্ধ।
তবুও চোখ মেলে আকাশকে দেখতে পাই,
আমাদের পুরোনো সেই সময়ের সঙ্গী।
ইমার চোখে কোন জল দেখি না, শুধুই ভয়ানক এক নির্লিপ্ততা। বাতাসে রেশমি চুলগুলো উড়ে উড়ে কাধের দুপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আমি ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ি, তারপর বলি-
আমিও তো ডাহুক হতে চেয়েছি,
কিংবা সাতসকালের কোকিল
তোমার কাধের একটু স্পর্শ পাবার আশায়।
কখনো চেয়েছি শিশির হব,
তোমার হাতের একটু স্পর্শ পাবার আশায়।
বারংবার মিশে গিয়েছি ঝরণাধারায়,
আর মিশেছিলাম সমুদ্রের নোনাজলে,
তোমার যুদ্ধের প্রতীকি জয়গান গাবার আশায়।
শেষকথাঃ
আমাদের বাড়িটা এখনো পুরোপুরি তৈরী হয়নি। আমি শক্ত করে গিরিখাদের ওপর একটা ঝুলন্ত বারান্দা বসিয়ে দিয়েছি। কোনদিন ফিরতে দেরি হলেই ইমা গাল ফুলিয়ে অন্যদিক মুখ করে ওই বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকে। মান ভাঙাতে তখন হয়তো কোন একটা উপহার ধরে দিতে হয়। কখনো বনের রাস্তায় পড়ে থাকা ঘাসফুল, কখনো বাসা ভেঙে পড়ে যাওয়া শালিকের ছানা। ইমা সেই উপহার পেয়ে আহ্লাদে আটখানা হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে।
খুব করে একটা বাড়ির শখ ছিল, অথচ আমি আজ ঘর পেয়েছি। খুব ছিমছাম, সুন্দর একটা ঘর।--- রওনক ইসলাম
No comments:
Post a Comment