Social Icons

Friday, 30 October 2015

ইভান এবং...

''' ইভান এবং...'''
***ইভান নিজেকে নিজে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। বার বারই হৃদির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। হৃদিকে তার ভালো লেগে গেছে। কিন্তু সে চাচ্ছে না হৃদির প্রেমে পড়ে যেতে। এ জন্যই নিজেকে নিজে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।
এত চেষ্টা করেও কোন লাভ হচ্ছে না। আরো বেশি করে হৃদির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ঘুমুতে যাওয়ার আগে হৃদির চিন্তা করতে করতেই ঘুমিয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠে হৃদি কথা সবার আগে মনে পড়ে। আর সারাদিন তো প্রতিটা কাজেই হৃদির চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে।
হৃদির বড় বড় চোখ গুলো কি যে ভালো লাগে। 
 ভালো লাগলে হাসলে হৃদির গালে পড়া ডিম্পল। তাছাড়া হৃদি যাই করে, তাই ইভানের কাছে ইউনিক মনে হয়, তাই ভালো লাগে।

বাড়ি-ঘরের অন্তর্কোন্দল

খুব করে একটা বাড়ির শখ ছিল। ছিমছাম, মেঘ ছুঁই ছুঁই, আকাশের অনেকটা কাছে, পাহাড়ের গা ঘেষে একটা বাড়ি। বুনো লতাপাতা বাড়তে বাড়তে বাড়ির কার্নিশ ছুঁয়ে যাবে, শ্রাবণের জলধারা বাড়ির ছাদ চুইয়ে চুইয়ে পড়ে মিশে যাবে নিচের নদীর সাথে।
কেমোফ্লেজের মত সবুজের সাথে মিশে যাবে বাড়ির প্রাচীর গুলো। খুব করে শখ ছিল। বাবা হেসে উড়িয়ে দিতেন। বলতেন, “জয় তব নবীন। স্বপ্ন যেন স্বপ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে,” আমি মুষড়ে যেতাম। বাবাকে একশ একটা অভিশাপে জর্জরিত করে বেরিয়ে পড়তাম ঘিঞ্জি হয়ে জন্মানো বুনোলতার উদ্দেশ্যে।
শখটাকে আকড়ে বাঁচতে চাইছিলাম। আমার চাওয়ায় বেশ খানিকটা অক্সিজেন দান করেছিল ইমা নামের ছোট্ট একটা মেয়ে। আমি যখনই মন খুলে আমার স্বপ্নের কথা বলতাম, সে তার গোলগোল চোখগুলো বড় বড় করে অবাক হয়ে শুনত। কথার শেষে জোর দিয়ে বলত, “হবে না কেন? একশো বার হবে, হাজার-কোটি বার হবে,” ছোট ওই বয়সে ছোট ওই মেয়েটার কথা আমাকে মুগ্ধ করত। জানতামই না, অজান্তেই কখন ওই গোল গোল চোখের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।
একটু বড় হতেই বুনো গন্ধটা শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলতে হল। আদিগন্ত বিস্তৃত তৃণভূমির চূড়ায় দাড়িয়ে শ্বাস নিয়ে অভ্যাস ছিল, অথচ কিনা জোরপূর্বক শিখতে হল সীসাযুক্ত বিষাক্ত বাতাসে নিশ্বাসকার্য। ঢাকা শহরের অলিতে-গলিতে জীবনের তাগিদে যখন ছুটতাম, বারবার শুধু পাহাড়ের গায়ে লেপ্টে থাকা একটা বাড়ির ছবি ভেসে উঠত চোখের সামনে। অসীম খাদের ওপর ঝোলানো বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকা একটা মেয়ের ছবিও ভাসত তাতে, মেয়েটার মুখটা দেখতে পাইনি। কি এক ছেলেমানুষি অভিমানে সে মুখ আর আমার দিকে ফেরে না।
মাঝেমধ্যে বড় ছুটিতে বাড়ি যেতাম, দুই তিন দিন ঘরে বসে থাকা আরকি। সেবার পূজার ছুটিতে ইমার খোঁজখবর শুরু করলাম। ছুটছাট আত্মীয়ের সাথে কথা বলে জানা গেল, সেয়ানা মেয়েকে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় না রেখে শহরে নিয়ে গিয়েছে ওর বাবা-মা। আমি মনে মনে হাসলাম, সময় কি করে জানি মুহূর্তগুলোকে আলাদা রাস্তায় নিয়ে চলে যায়। ইমা নিশ্চয়ই আমার সেই বাড়িটার কথা ভাবে। অথচ কালের পরিক্রমায় কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে সেই শখ কিংবা স্বপ্ন।
শেষ বর্ষে হঠাত

বৃষ্টিটা অনেক সুন্দর, কারন তুমি আমার পাশে আছো

বৃষ্টিটা অনেক সুন্দর,
কারন তুমি আমার পাশে আছো
-- ----- --
অফিসে বসে আছে স্পন্দন,
খুব মন খারাপ তার। আজ আকাশটাও থমথমে। অনেক মেঘ জমে আছে। ঠিক স্পন্দনেরমনের অবস্থার মত। অফিসের কোন কাজই ঠিক মত হচ্ছে না আজ। কি আর করবে বেচারা? মন খারাপ থাকলে কি আর ঠিক মত কাজ করা যায়? কেনই বা মন খারাপ হবে না? প্রেয়শীর সাথে ঝগড়া হয়েছে যে…
★বাড়িতে চুপচাপ বসে আছে অহনা। তারও খুব মন খারাপ। কি আর করা যাবে? ভালোবাসার মানুষটার সাথে ঝগড়া হলে মন তো খারাপ হবেই।
★স্পন্দন ও অহনা--- দুজন স্বামী-স্ত্রী। খুব ভালোবাসে দুজন দুজনকে।

"ভালবাসা,তোমায় দিলাম ছুটি"

★★ফোনটা ভাইব্রেট করেই
স্ক্রিনের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি । হাত
কাঁপছে । এত
দিন,এতবছর পর আবার সেই নাম্বার থেকে
ফোন
এসেছে বিশ্বাস হচ্ছে না । আজও
নাম্বারটা দেখে হৃদস্পন্দন কয়েকগুণ বেড়ে
যায় । মনের
মাঝে প্রবল ঝড় বয়ে যায় । শেষপর্যন্ত রিসিভ
করে ফেল্লাম । ওপাশ থেকে ভেসে এল সেই
পরিচিত
কন্ঠস্বর । এতবছর পরও একটুও বদলায়নি । সেই
আগের মতই আছে ..
:হ্যালো ...
কি হল? কিছু বলছ না যে?
:না আসলে পাঁচ বছর পর এই নাম্বার থেকে
ফোন
আশা করিনি । তাই বুঝতে পারছিনা যে কি
বলব ।
:কয়েকদিন থেকেই তোমার কথা খুব মনে
পড়ছিল ।
কিন্তু ফোন করার ঠিক সাহস পাচ্ছিলাম না ।
কাল
থেকে তোমার কন্ঠ শোনার খুব ইচ্ছে করছিল
। তাই
আজ সাহস করে ফোনটা দিয়েই দিলাম ।
কেমন আছ
তুমি ?
:মানুষ বদলে যায় কিন্তু তাদের কন্ঠ বদলায়না
। হুম
আছি নিজের মত করে । নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত
আছি ।
:জিঞ্জেস করবেনা আমি কেমন আছি ?
:উহু,প্রয়োজন নেই । কিছু কিছু মানুষ
আছে যারা সবসময় ভাল থাকে । তুমি হচ্ছ
তাদের
একজন ।
:(ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা .......) আমার
কথা মনে পড়েনি তোমার ?
:হ্যা পড়েছে । অনেক মনে পড়েছে । যথন
দিনের পর
দিন না খেয়ে থাকতাম তখন মনে পড়ত "তুমি
ঠিকমত
খাচ্ছ তো?" যখন রাতের পর রাত
না ঘুমিয়ে,কেঁদে কেঁদে অসুস্থ হয়ে পড়তাম
তখন
মনে পড়ত "তুমি সুস্থ আছ তো?" যখন কোন
আনন্দোত্সবে সবাই হইচই আর আনন্দে মেতে
উঠত
আর আমি ঘরের দরজা বন্ধ
করে অন্ধকারে বসে থাকতাম তখন মনে পড়ত
"তুমি সবারসাথে খুশি আর আনন্দে মেতে উঠছ
তো?"
যখন আয়নায় নিজের অযত্ন অবহেলায়
শুকিয়ে যাওয়া চেহারাটার দিকে তাকাতাম
তখন
মনে পড়ত "তুমি নিশ্চই আরো সুন্দর হয়ে গেছ ।"
একসময় অনেক মনে পড়েছে । এখন আর পড়ে
না । এখন
এত সময় কই এগুলো মনে পড়ার?
:(ওপাশে আবার নিরবতা ......)
আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না?
:ক্ষমা তো আমি তোমাকে পাঁচ বছর আগেই
করে দিয়েছিলাম । তোমায় ক্ষমা না করলে
আমার
মনে তোমার দেয়া কষ্টগুলোর ক্ষত
কোনভাবেই
শুকাত না । আচ্ছা এখন তাহলে রাখি । এখন
আমার
আকাশ দেখার সময় । প্রতিদিন রাতে এইসময়
আমি আকাশ দেখি । আকাশের সাথে কথা
বলি ।
আকাশ কখনো আমার সাথে ছলনা করেনা ।
প্রতিরাতে সে তারার ঝুলি নিয়ে আমার
সামনে হাজির
হয় । আমি কথা বলি সে চুপচাপ শোনে । একটুও
বিরক্ত হয়না ।
:......একরাত আকাশের সাথে কথা না বল্লে
হয় না?
আমাদের কথা থেকে আকাশের কথা কি খুব
বেশি জরুরী?
:আপাতত তাই । আমার চরম অসহায়ত্ব আর
একাকিত্বের সময় এই আকাশ আমায় সঙ্গ
দিয়েছে ।
যে পাঁচ বছর আমায় দূরে সরিয়ে রেখেছিল
তার জন্য
আমি আমার পাঁচ বছরের
পাশে থাকা সঙ্গীকে দূরে সরিয়ে রাখতে
পারবনা ।
আচ্ছা আমি এখন যাব । রাতের আকাশ আমার
জন্য
অপেক্ষা করছে । আজ খুব সুন্দর একটা চাঁদও
উঠেছে আকাশে । আজ চাঁদের সাথেও কথা
বলব ......
ফোনটা কেটে দিলাম । বারান্দায় এসে
দাড়ালাম ।
আকাশের বুকে গোল একটা চাঁদ উঠেছে ।
তাকিয়ে আছি । খুব কষ্ট হচ্ছে । সেই পাঁচবছর
আগের
মত কষ্ট যখন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে
গিয়েছিলে ।
কি দোষ ছিল আমার?কেন চলে গিয়েছিলে?
আজ ও
তা আমি জানিনা । তারপরও অটুট
বিশ্বাস,আশা ধরে রেখেছিলাম একদিন তুমি
আসবে ।
আমি অপেক্ষা করব । করেছি,অনেক
অপেক্ষা করেছি ।
ভেবেছিলাম যেদিন তোমার ফোন
আসবে খুশিতে চিত্কার দেব । তোমার
পানে ছুটে চলে যাব । দিন যায়,মাস যায়,বছর
যায়
কিন্তু তুমি আসনা । ভার্সিটি পাশ করার দু
বছর
হয়ে গেল । বাবা আমার আমাকে অনেক
ভালবাসে ।
সেই বাবাকে পর্যন্ত বলে দিলাম বিয়ে
করবনা ।
বাবার দীর্ঘঃশ্বাস,দুঃখভরাক্রান্ত মন সবই
উপেক্ষা করতাম । ঠিক পাঁচমাস আগে বাবা
অনেক
অসুস্থ হয়ে গেল । ডাক্তার বল্লেন মাইনর
এট্যাক ।
এই বয়সে এত টেনশন ওনার সাস্থ্যের জন্য
ক্ষতিকর ।
বাবার অসুস্থতার জন্য কোন না কোন
ভাবে আমি দায়ী । কারণ বাবার সব টেনশন
ছিল
আমাকে নিয়ে । সারাদিন বাবার হাত
ধরে বসে থাকতাম । বেশ কয়েকদিন পর বাবা
একটু
সুস্থ হয়ে উঠলেন । আমার মাথায় হাত
বুলিয়ে বল্লেন,"মা,আমার জীবনের মনে হয়
আর খুব
বেশি দিন বাকি নেই । আমি সবসময়
থেকে তোমাকে সুখী রাখতে চেয়েছি ।
মৃত্যুর আগেও
আমি তোমাকে সুখী দেখে যেতে চাই । এটাই
এখন
আমার শেষ ইচ্ছা । একজন বাবা হিসেবে এর
বেশি আর
কিইবা চাওয়ার থাকতে পারে?মা,তুমি
একবার ভেবে দেখ
। ছেলেটা অনেক ভাল । তোমাকে অনেক
সুখে রাখবে আমার বিশ্বাস । কোন
তাড়াহুড়ো নেই ।
ছেলেটার সাথে দেখা কর । তাকে
বুঝার,চেনার
চেষ্টা কর । তোমার পছন্দ না হলে কোন
অসুবিধা নেই । শুধু তার সাথে দেখা
করে,কথা বলে দেখ
।" না,পারলামনা আর বাবার কথা অমান্য
করতে ।
তার আকুতি ভরা দৃষ্টি উপেক্ষা করতে ।
বাবার
পছন্দের ছেলেটার সাথে প্রথম দেখা করলাম
দেড় মাস
আগে । ইঞ্জিনিয়ার । কিন্তু দেখে বোঝার
উপায় নেই
। খুব সাধাসিধে ছা পোষা ধরণের মানুষ ।
কথার
মারপ্যাঁচ ধরতে পারেন না । লোকটার মা নেই
। ওনার
মনে অনেক কষ্ট । একদিন
ভয়ে ভয়ে বল্লেন,"একটা কথা বলি?আপনার
মাঝে কোথায় যেন আমার মায়ের ছায়া
আছে ।
মাকে চোখের সামনে দেখতে পাই নি কিন্তু
অনুভব
করেছি । সরি আপনি রাগ করলেন না তো
আমার
কথায়?" বলে লোকটা চোখের
পানি লুকোতে চেষ্টা করত । ব্যর্থ চেষ্টা ।
বাবাকে অনেক সম্মান করেন । প্রায়
প্রতিদিন সময়
করে বাবাকে দেখতে আসেন । ওষুধ ঠিকমত
খাচ্ছেন
কিনা,নিজের শরীরের যত্ন নিচ্ছেন কিনা
আরো কত
কি । একদিন বাবার
সাথে দেখা করতে এসে আমাকে বেশ লাজুক
স্বরে বল্লেন,"ইয়ে মানে আপনার জন্য একটা
জিনিষ
এনেছিলাম । আমি নিজে রান্না করেছি ।
অনেক
আগে থেকেই রান্না করতে করতে এখন
মোটামুটি ভালো রান্না করতে পারি ।
বিয়ের পর
আপনার কোন সমস্যা হবে না .......ওহ সরি আই
মিন যদি বিয়ে হয় । কই মাছের পাতুরি রান্না
করেছি ।
অনেক কষ্ট এটা রান্না করা । আশা করি
আপনার
ভালো লাগবে ।"
"আমি কই মাছ খাইনা" বেশ নির্লিপ্ত সুরে
বললাম ।
উনি আহত স্বরে বল্লেন "ওহ সরি সরি ।
আমারি ভুল
হয়ে গেছে । আমার আসলে আপনাকে
জিঞ্জেস
করা উচিত ছিল আপনার কি খেতে ভাল
লাগে ।"
বড্ড দেরি করে ফেলেছ তুমি । গতকাল
বাবাকে বলে দিয়েছি যে বিয়েতে আমি
রাজি । বাবার
চোখে যে খুশি আমি দেখেছি সেটা আজ
তোমার
কাছে ফিরে গিয়ে নষ্ট করে দিতে পারতাম

হ্যা পারতাম বাবাকে যেয়ে বলতে যে এই
বিয়ে আমি করবনা । পারতাম বাবাকে সেই
লোকটার
সামনে ছোট করে দিতে । কিন্তু না,পারলাম
না আমার
বাবার মনে কষ্ট দিতে । পারলামনা তাকে
ছোট
করতে । তুমি যখন আমাকে কুকুর-বিড়ালের
চাইতেও
বেশি অবহেলা করতে তখন এই
মানুষটা আমাকে রাজকুমারীর মত রাখত ।
আমার
খেয়াল রাখত । বল আজ কিভাবে পারি
তোমার জন্য
তাকে কষ্ট দিতে?পারতাম তোমার
ভালবাসাকে বুকে জড়িয়ে সেই
সাধাসিধে লোকটাকে বলে দিতে যে,"সরি
আপনাকে বিয়
পক্ষে সম্ভব না ।" পারতাম সেই
মা হারা একাকী লোকটার স্বপ্ন ভেঙে
দিতে ।
হ্যা বলার পর থেকে লোকটা এক ঘন্টা পরপর
ফোন
দিয়ে জিঞ্জেস করছে,"ইয়ে মানে বিয়ের
শাড়ী আপনি কবে কিনতে যাবেন?আপনাকে
নিয়ে যাব ।
আমি আবার এগুলো একদম বুঝি না ।
আমি কিনলে সিওর আপনার পছন্দ হবে না ।"
"না মানে আবার ফোন করলাম জানার জন্য
যে আপনার আগের কালের ডিজাইনের গহনা
পছন্দ
কিনা । আসলে আমার মার
দুটো বালা আমি আপনাকে দিতে চাচ্ছিলাম
। অনেক
পুরোনো ডিজাইন । আজকালকার মেয়ে
আপনি । তাই
ভাবলাম একবার জিঞ্জেস করে নেই যে
আপনার পছন্দ
হবে কিনা ...।" পারতাম লোকটার এত
আকাঙ্খা আর
উচ্ছ্বাস ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে ।
কিন্তু
না,পারলামনা এত স্বার্থপর হতে । তুমি তো
অনেক
স্বার্থপর হতে পেরেছিলে,তাই তো আমার
এত কষ্ট
আর ভালবাসাকে উপেক্ষা করে চলে
গিয়েছিলে শুধু একটু
মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করতে । কিন্তু
আমি পারিনা,পারবনা এত স্বার্থপর হতে ।
পারবনা নিজের ভালবাসার জন্য এই দুইজন
মানুষের
ভালবাসা আর স্বপ্নকে ধুলিস্যাত্ করতে ।
হয়তো আজ তুমি ভাবছ আমি প্রতিশোধ
নিয়েছি ।
তাই সই । তোমার
চোখে অপরাধী হয়ে আমি যদি এইদুইজন
মানুষের
মুখে হাসি ফোটাতে পারি তাহলে তাই সই ।
যদি তুমি আরেকটু আগে আসতে তাহলে
তোমার
ভালবাসাকে আপন করে নিতাম,যা এখন আর
সম্ভব
নয় । অনেক দেরি হয়ে গেছে । এখন আর
নিজের
ভালবাসা নয়,তাদের ভালবাসার প্রতিদান
দেবার
পালা যারা আমাকে তোমার চেয়ে অনেক
বেশী ভালবাসে ।
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি ।
চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসছে । দু
ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল চোখ দিয়ে ।
মনে মনে বল্লাম,
"ভালবাসা,তোমায় দিলাম ছুটি"
----ফারহানা ফারিয়া

"প্রস্থান"

★★আজ অনেককাল পর সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠতে
গিয়ে আমাদের ভীষন ক্লান্তি লাগে।
আমাদের ছোটবেলায়, মা যখন তার এমএ পড়া
নিয়ে ব্যস্ত, আমরা তখন নানাবাড়ি থাকতাম।
আমাদের পিতা তখন সরকারী চাকরীর
শাস্তি মাথায় নিয়ে বনে-বাদাড়ে ঘুরে
বেড়াচ্ছেন। তিনি মাঝে মাঝে বাড়ি এলে
আমরা আগেরবার যাকে 'বাবা' বলে জানতাম
তার চেহারা মনে করার প্রানপন চেষ্টা
করতাম। লাভবিশেষ না হলে, হয়ত আন্দাজের
ওপর দিয়েই 'বাবা, বাবা' বলে চালিয়ে
নিতাম।
সেই সময়ে, আমাদের মা যখন গাড়িঘোড়ায়
চড়ার চেষ্টা করছিলেন, আর পিতা যখন
ফেরারী, তখন আমাদের মধ্যবয়স্কা নানু
ডিমে তা দেয়ার মতন উষ্ণতায় আমাদের বড়
করতে লাগলেন।
নাইলে যে বিপদ। বাড়ির পেছনে পুকুরঘাট,
মাছ খেয়ে ফেলে যদি। বড়রাস্তায় চলে
গিয়ে ট্রাক চালানো শিখে যাই যদি। ডাব
খাবি? কাউকে দিয়ে ডাব পাড়িয়ে দিই।
মহিলা একহাতে পুরো সংসার সামলে
অন্যহাত আমাদের দিলেন। আমরা পরমানন্দে
বড় হতে থাকলাম। প্রতিদিন দু'একটা বাঁদর
এসে আমাদের কাছ থেকে নানান কসরত
শিখে যায়।
একদিনের মধ্যবয়স্কা আরেকদিনের বৃদ্ধা।
তাই তিনি যখন কোন সন্ধ্যায় আমাদের হাত
ধরে ধরে অল্প অল্প করে সিঁড়ি ভাঙ্গেন,
আমরা হঠাৎ করেই বুঝতে পারি, একে আমরা
চিনি না, এ অন্য কেউ। বয়সের
আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হঠাৎ কুঁকড়ে
যাওয়া জীবন্ত পুতুল হয়ত।
সিঁড়ির পরের ধাপেই আমাদের মাথা চক্কর
দিয়ে ওঠে। তিনি আমাদের ধরে থাকেন না
আমরা তাদের, ঠিক বোঝা যায় না। আমাদের
চোখের সামনে বাড়ির পুকুর, বড়রাস্তা,
ঢ্যাঙ্গা নারিকেল গাছ, ভটভট শব্দ তোলা
বেবিট্যাক্সির বয়স বাড়তে থাকে, হঠাৎ
আমাদের শৈশব বৃদ্ধ হয়ে যায়। তার চোখে
ছানি পড়ে।
তখন আমাদের এই দুই পয়সার নষ্ট বুক ছিঁড়ে
ফেলে এই অচেনা বৃদ্ধাকে তার ভেতরে
ঢুকিয়ে নিয়ে একলাফে সবক'টা সিঁড়ি
ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছা হয়। আমাদের খুব ইচ্ছা
হয়।
আমরা পারি না।
---- ইমরান নিলয়
 
Blogger Templates