বৃষ্টিটা অনেক সুন্দর,
কারন তুমি আমার পাশে আছো
-- ----- --
অফিসে বসে আছে স্পন্দন,
খুব মন খারাপ তার। আজ আকাশটাও থমথমে। অনেক মেঘ জমে আছে। ঠিক স্পন্দনেরমনের অবস্থার মত। অফিসের কোন কাজই ঠিক মত হচ্ছে না আজ। কি আর করবে বেচারা? মন খারাপ থাকলে কি আর ঠিক মত কাজ করা যায়? কেনই বা মন খারাপ হবে না? প্রেয়শীর সাথে ঝগড়া হয়েছে যে…
★বাড়িতে চুপচাপ বসে আছে অহনা। তারও খুব মন খারাপ। কি আর করা যাবে? ভালোবাসার মানুষটার সাথে ঝগড়া হলে মন তো খারাপ হবেই।
★স্পন্দন ও অহনা--- দুজন স্বামী-স্ত্রী। খুব ভালোবাসে দুজন দুজনকে।
যদিও তাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিলো, বিয়ের আগে কেউ কাউকে চিনতো না। আর দুজনই আগেও কখনো প্রেম করেনি। স্পন্দনের স্বপ্ন ছিলো মনের মত একটা বউ আনবে ঘরে, তার সাথেই সারাটাজীবন
প্রেম করবে। আর অহনা চেয়েছিলো, একজন আদর্শ স্বামী। বলতে দ্বীধা নেই দুজনের মনের আশাই
পূর্ণ হয়েছে। খুব ভালোবাসে একে অপরকে। শহরের এই কর্পোরেট যুগেও ছোট্ট একটি বাড়িতে দুজন টুনাটুনির মত সংসার করে যাচ্ছে। তাদের এই ছোট্ট সংসারটায় সবই আছে, অভাব নেই ভালোবাসারও, বরং, ভালোবাসাটা একটু বেশিই আছে।
★অহনা স্পন্দনকে খুব শাসন করে। স্পন্দনের সব কিছুর খেয়াল রাখে। কোন কিছুর অনিয়ম
করতে দেয় না। অফিসে স্পন্দন যত বড় বসই হোক না কেনো,, বাড়িতে বস অহনা। মাঝে মাঝে স্পন্দন একটু বিরক্তবোধ করে, তবুও হাসি মুখে মেনে নেয়। কারন সে জানে, মেয়েটি তাকে অনেক ভলোবাসে।
★কিন্তু কাল একটু অন্যরকম হয়ে গিয়েছিলো…. অফিসে প্রচুর কাজের চাপ, আর ছিলো বোর্ড মিটিং। যার ফলে স্পন্দনের বাসায় ফিরতে অনেক দেরি হয়ে যায়। আর মোবাইলটা রাতে চার্জ না দেয়ায় বেটারি ছিলো ডেড। আর এদিকে, অহনা চিন্তায় স্বস্তি পাচ্ছে না। স্পন্দন কখনো অহনাকে না জানিয়ে এত রাত অব্দি বাইরে থাকে নি। এই রকম দেরি ও আগেও অনেক করেছে, কিন্তু সব সময় ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আজ কি হলো? আজ তো একটি বারও ফোন করলো না, অহনাও বারবার ফোনে ট্রাই করছে, কিন্তু কল ঢুকছে না, স্পন্দনের ফোনটা বন্ধ। যার ফলে চিন্তার মাত্রাটা আরো বেড়ে যাচ্ছে।
★রাত 10:30, দরজার বেল বাজছে। অহনা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখলো স্পন্দন এসেছে। খুব স্বস্তি পেলো তাকে দেখে, কিন্তু সাথে চিন্তাটাও ছিলো। কোথায় ছিলে? এতো দেরি হলো কেনো?(অহনা) অফিসে অনেক কাজ ছিলো আজ(স্পন্দন) কি এমন কাজ পরেছিলো আজ যে এতো রাত অব্দি থাকতে হলো? এতো প্রশ্ন কোরো না তো, ভালো লাগছে না একটা ফোনও করোনি আজ। বিকাল থেকে ট্রাই করছি, অথচ তোমার ফোনটাও অফ। আজ কাজের চাপটা বেশি ছিলো বিধায় স্পন্দনের মারাত্মক ক্লান্ত লাগছিলো, তাই অহনার কোনো কথাই ভালো লাগছিলো না তার। তাই হঠাৎ জোরেই বলে উঠলো….. দেখো অহনা আমি তোমার এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। সারাদিন কাজ করে বাসায় এসেছি তোমাকে কৈফিয়ত দেবার জন্য? তোমার কাছে আমার সব কাজের হিসাব দিতে হবে নাকি? আসলে তোমাকে বিয়ে করাই আমার ভুল হয়েছে। এরপর অহনা আর কিছু বলে নি, শুধু কেঁদেছে। সারাদিন এতো দুশ্চিন্তায় থাকার পর এখন স্বামীর কাছ থেকে নিশ্চয়ই সে এ কথাগুলো আশা করেনি! কথায় বলে না,,‘‘ কাঁটার আঘাত সয়, কিন্তু ফুলের আঘাত সয় না’’ আর স্পন্দন,- নিজের মুখের কথা নিজেই শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছে, কি বলতে কি বলে ফেললো? এখনতো ভেতরটা কষ্টে জ্বলে যাচ্ছে তার। সারা রাত ছাদে বসে কাটিয়ে দিয়েছে।
★আজ সকালেও দুজন কথা বলেনি। অফিসে যাবার আগে স্পন্দন দেখলো যে অহনা তার জন্য খাবার তৈরি করে টেবিলে রেখে দিয়েছে। কিন্তু অহনা এখানে নেই। ঘরে বসে আছে। স্পন্দন ঘরে গেলে অহনা অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে। স্পন্দন অহনার মুখটা যতটুকুই দেথতে পেরেছে, তাতে বুঝতে পারলো তার চোখ মুখ মারাত্মক রকমের লাল হয়ে আছে। সারারাত কেঁদেছে মেয়েটা। স্পন্দন আর থাকতে পারলো না, বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে। না খেয়েই অফিসে চলে গেলো। কারন ও জানে অহনাও খায় নি।
★সারাটাদিন অশান্তিতে ছিলো স্পন্দন, আর বারবার নিজের ওপর রাগ হচ্ছে তার। কেনো সে অহনাকে ঐভাবে বলতে গেলো? কেনো ওকে কষ্ট দিলো? কি করবে সে এখন? কিভাবে রাগ ভাঙাবে অহনার?
যদিও সে জানে, অহনা তার ওপর বেশিক্ষন রাগ করে থাকতে পারবে না,, তবুও………..
★অফিস টাইম শেষ হবার সাথে সাথেই বেরিয়ে গেলো স্পন্দন। যেভাবেই হোক অহনার রাগ ভাঙাতে হবে। কিন্তু কি করবে সেটাই তো ভেবে পাচ্ছে না।
★দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে স্পন্দন। কলিং বেলের আওয়াজ শুনেই অহনা বুঝতে পারলো স্পন্দন এসেছে। অবশ্য দরজা খুলে দিয়েই চলে গেলো,,যদিও অন্য সময় অহনা এভাবে দরজাটা খুলেই চলে যায় না। কিন্তু আজ প্রথমবারের মত বেতিক্রম ঘটলো। কিছু বলতে পারলো না স্পন্দন,, চুপচাপ ঘরে চলে গেলো।
★স্পন্দনের জন্য টেবিলে খাবার সাজিয়ে রেখেছে অহনা,, আর নিজে বসে আছে সোফায় গিয়ে। কিন্তু, অনেকক্ষন ধরে স্পন্দনের কোনো সাড়া শব্দ পাচ্ছে না সে। কি হলো হঠাৎ? এতোক্ষন তো লাগার কথা না। হঠাৎ মনটা কেমন যেনো করে উঠলো ওর। শেষ পর্যন্ত নিরবতা ভেঙে স্পন্দনকে ডাকলো। কিন্তু স্পন্দনের কোনো সাড়া নেই। অহনা ঘরে গেলো, সেখানেও স্পন্দন নেই। ওয়াশ রুমেও নেই। গেলো ও?
★হঠাৎ দেখলো, ড্রেসিং টেবিলে একটা চিরকুট রাখা। স্পন্দন লিখেছে সেটা। যদিও খুব বেশি কিছু লেখা নেই। অনেক কিছু লিখতে চেয়েছিলো হয়তো। কিন্তু বেচারা লিখতে পারে নি। হয়তো ভাষা খুঁজে পায় নি। তাই শুধু একটা বাক্যই লিখেছে।
খুবই সাধারন একটা বাক্য,,, ‘‘ আমি আমার বউটাকে অনেক বেশি ভালোবাসি ’’
জাস্ট এতটুকুই যথেষ্ট ছিলো যথেষ্ট ছিলো অহনাকে নিজের মনের কথাটা বোঝাবার জন্য। কারন বাক্যটা অতি সাধারন হলেও সেটার মধ্যে পুরোটাই সত্যতা ছিলো।
★অহনার চোখে জল চলে আসলো, তবে সেটা আনন্দের। কারন সে জানে যে তার বরটা তাকে আসলই অনেক বেশি ভালোবাসে।
★বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। অহনা জানে এখন স্পন্দন কোথায় থাকতে পারে। দেরি না করেই ছাদে গেলো সে।
দেখলো, স্পন্দন ছাদের রেলিং এ হেলান দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে।
তার পাশে গিয়ে দাড়ালো অহনা। তারপর নিরবতা, শুধু বৃষ্টি পরার শব্দ, আর মাঝে মাঝে মেঘের হালকা গর্জন। দুজনই পাশাপাশি দারিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে।
★কিছুক্ষন পর স্পন্দন নিরবতা ভেঙে বললো…… ‘‘ জানো অহনা, বৃষ্টিটা অনেক সুন্দর, কারন তুমি আমার পাশে আছো ’’ অহনা আর থাকতে পারলো না। কাঁদতে কাঁদতে স্পন্দনের বুকে মুখ লুকালো। আর দুই টুনটুনির অভিমান বৃষ্টির মাঝে উড়ে গেলো ঐ মেঘলা আকাশে।
★এখন ওরা দুজন মনের আনন্দে বৃষ্টিবিলাশ করছে। যদিও অহনা জানে, বৃষ্টিতে বেশিক্ষন ভিজলে স্পন্দনের ঠান্ডা লেগে যায়,, তবুও আজ বাঁধা দেবে না। আজ তারও খুব ভালো লাগছে স্পন্দনের সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে। থাক না, করুক না আজ ওরা একটু বৃষ্টিবিলাশ।
★ভালো থাকুক স্পন্দন আর অহনার পবিত্র ভালোবাসা।
--- লেখক: আলো ছায়ার বিকাল(মো. শাহরিয়ার সিফাত)
কারন তুমি আমার পাশে আছো
-- ----- --
অফিসে বসে আছে স্পন্দন,
খুব মন খারাপ তার। আজ আকাশটাও থমথমে। অনেক মেঘ জমে আছে। ঠিক স্পন্দনেরমনের অবস্থার মত। অফিসের কোন কাজই ঠিক মত হচ্ছে না আজ। কি আর করবে বেচারা? মন খারাপ থাকলে কি আর ঠিক মত কাজ করা যায়? কেনই বা মন খারাপ হবে না? প্রেয়শীর সাথে ঝগড়া হয়েছে যে…
★বাড়িতে চুপচাপ বসে আছে অহনা। তারও খুব মন খারাপ। কি আর করা যাবে? ভালোবাসার মানুষটার সাথে ঝগড়া হলে মন তো খারাপ হবেই।
★স্পন্দন ও অহনা--- দুজন স্বামী-স্ত্রী। খুব ভালোবাসে দুজন দুজনকে।
যদিও তাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিলো, বিয়ের আগে কেউ কাউকে চিনতো না। আর দুজনই আগেও কখনো প্রেম করেনি। স্পন্দনের স্বপ্ন ছিলো মনের মত একটা বউ আনবে ঘরে, তার সাথেই সারাটাজীবন
প্রেম করবে। আর অহনা চেয়েছিলো, একজন আদর্শ স্বামী। বলতে দ্বীধা নেই দুজনের মনের আশাই
পূর্ণ হয়েছে। খুব ভালোবাসে একে অপরকে। শহরের এই কর্পোরেট যুগেও ছোট্ট একটি বাড়িতে দুজন টুনাটুনির মত সংসার করে যাচ্ছে। তাদের এই ছোট্ট সংসারটায় সবই আছে, অভাব নেই ভালোবাসারও, বরং, ভালোবাসাটা একটু বেশিই আছে।
★অহনা স্পন্দনকে খুব শাসন করে। স্পন্দনের সব কিছুর খেয়াল রাখে। কোন কিছুর অনিয়ম
করতে দেয় না। অফিসে স্পন্দন যত বড় বসই হোক না কেনো,, বাড়িতে বস অহনা। মাঝে মাঝে স্পন্দন একটু বিরক্তবোধ করে, তবুও হাসি মুখে মেনে নেয়। কারন সে জানে, মেয়েটি তাকে অনেক ভলোবাসে।
★কিন্তু কাল একটু অন্যরকম হয়ে গিয়েছিলো…. অফিসে প্রচুর কাজের চাপ, আর ছিলো বোর্ড মিটিং। যার ফলে স্পন্দনের বাসায় ফিরতে অনেক দেরি হয়ে যায়। আর মোবাইলটা রাতে চার্জ না দেয়ায় বেটারি ছিলো ডেড। আর এদিকে, অহনা চিন্তায় স্বস্তি পাচ্ছে না। স্পন্দন কখনো অহনাকে না জানিয়ে এত রাত অব্দি বাইরে থাকে নি। এই রকম দেরি ও আগেও অনেক করেছে, কিন্তু সব সময় ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আজ কি হলো? আজ তো একটি বারও ফোন করলো না, অহনাও বারবার ফোনে ট্রাই করছে, কিন্তু কল ঢুকছে না, স্পন্দনের ফোনটা বন্ধ। যার ফলে চিন্তার মাত্রাটা আরো বেড়ে যাচ্ছে।
★রাত 10:30, দরজার বেল বাজছে। অহনা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখলো স্পন্দন এসেছে। খুব স্বস্তি পেলো তাকে দেখে, কিন্তু সাথে চিন্তাটাও ছিলো। কোথায় ছিলে? এতো দেরি হলো কেনো?(অহনা) অফিসে অনেক কাজ ছিলো আজ(স্পন্দন) কি এমন কাজ পরেছিলো আজ যে এতো রাত অব্দি থাকতে হলো? এতো প্রশ্ন কোরো না তো, ভালো লাগছে না একটা ফোনও করোনি আজ। বিকাল থেকে ট্রাই করছি, অথচ তোমার ফোনটাও অফ। আজ কাজের চাপটা বেশি ছিলো বিধায় স্পন্দনের মারাত্মক ক্লান্ত লাগছিলো, তাই অহনার কোনো কথাই ভালো লাগছিলো না তার। তাই হঠাৎ জোরেই বলে উঠলো….. দেখো অহনা আমি তোমার এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না। সারাদিন কাজ করে বাসায় এসেছি তোমাকে কৈফিয়ত দেবার জন্য? তোমার কাছে আমার সব কাজের হিসাব দিতে হবে নাকি? আসলে তোমাকে বিয়ে করাই আমার ভুল হয়েছে। এরপর অহনা আর কিছু বলে নি, শুধু কেঁদেছে। সারাদিন এতো দুশ্চিন্তায় থাকার পর এখন স্বামীর কাছ থেকে নিশ্চয়ই সে এ কথাগুলো আশা করেনি! কথায় বলে না,,‘‘ কাঁটার আঘাত সয়, কিন্তু ফুলের আঘাত সয় না’’ আর স্পন্দন,- নিজের মুখের কথা নিজেই শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছে, কি বলতে কি বলে ফেললো? এখনতো ভেতরটা কষ্টে জ্বলে যাচ্ছে তার। সারা রাত ছাদে বসে কাটিয়ে দিয়েছে।
★আজ সকালেও দুজন কথা বলেনি। অফিসে যাবার আগে স্পন্দন দেখলো যে অহনা তার জন্য খাবার তৈরি করে টেবিলে রেখে দিয়েছে। কিন্তু অহনা এখানে নেই। ঘরে বসে আছে। স্পন্দন ঘরে গেলে অহনা অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে। স্পন্দন অহনার মুখটা যতটুকুই দেথতে পেরেছে, তাতে বুঝতে পারলো তার চোখ মুখ মারাত্মক রকমের লাল হয়ে আছে। সারারাত কেঁদেছে মেয়েটা। স্পন্দন আর থাকতে পারলো না, বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে। না খেয়েই অফিসে চলে গেলো। কারন ও জানে অহনাও খায় নি।
★সারাটাদিন অশান্তিতে ছিলো স্পন্দন, আর বারবার নিজের ওপর রাগ হচ্ছে তার। কেনো সে অহনাকে ঐভাবে বলতে গেলো? কেনো ওকে কষ্ট দিলো? কি করবে সে এখন? কিভাবে রাগ ভাঙাবে অহনার?
যদিও সে জানে, অহনা তার ওপর বেশিক্ষন রাগ করে থাকতে পারবে না,, তবুও………..
★অফিস টাইম শেষ হবার সাথে সাথেই বেরিয়ে গেলো স্পন্দন। যেভাবেই হোক অহনার রাগ ভাঙাতে হবে। কিন্তু কি করবে সেটাই তো ভেবে পাচ্ছে না।
★দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে স্পন্দন। কলিং বেলের আওয়াজ শুনেই অহনা বুঝতে পারলো স্পন্দন এসেছে। অবশ্য দরজা খুলে দিয়েই চলে গেলো,,যদিও অন্য সময় অহনা এভাবে দরজাটা খুলেই চলে যায় না। কিন্তু আজ প্রথমবারের মত বেতিক্রম ঘটলো। কিছু বলতে পারলো না স্পন্দন,, চুপচাপ ঘরে চলে গেলো।
★স্পন্দনের জন্য টেবিলে খাবার সাজিয়ে রেখেছে অহনা,, আর নিজে বসে আছে সোফায় গিয়ে। কিন্তু, অনেকক্ষন ধরে স্পন্দনের কোনো সাড়া শব্দ পাচ্ছে না সে। কি হলো হঠাৎ? এতোক্ষন তো লাগার কথা না। হঠাৎ মনটা কেমন যেনো করে উঠলো ওর। শেষ পর্যন্ত নিরবতা ভেঙে স্পন্দনকে ডাকলো। কিন্তু স্পন্দনের কোনো সাড়া নেই। অহনা ঘরে গেলো, সেখানেও স্পন্দন নেই। ওয়াশ রুমেও নেই। গেলো ও?
★হঠাৎ দেখলো, ড্রেসিং টেবিলে একটা চিরকুট রাখা। স্পন্দন লিখেছে সেটা। যদিও খুব বেশি কিছু লেখা নেই। অনেক কিছু লিখতে চেয়েছিলো হয়তো। কিন্তু বেচারা লিখতে পারে নি। হয়তো ভাষা খুঁজে পায় নি। তাই শুধু একটা বাক্যই লিখেছে।
খুবই সাধারন একটা বাক্য,,, ‘‘ আমি আমার বউটাকে অনেক বেশি ভালোবাসি ’’
জাস্ট এতটুকুই যথেষ্ট ছিলো যথেষ্ট ছিলো অহনাকে নিজের মনের কথাটা বোঝাবার জন্য। কারন বাক্যটা অতি সাধারন হলেও সেটার মধ্যে পুরোটাই সত্যতা ছিলো।
★অহনার চোখে জল চলে আসলো, তবে সেটা আনন্দের। কারন সে জানে যে তার বরটা তাকে আসলই অনেক বেশি ভালোবাসে।
★বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। অহনা জানে এখন স্পন্দন কোথায় থাকতে পারে। দেরি না করেই ছাদে গেলো সে।
দেখলো, স্পন্দন ছাদের রেলিং এ হেলান দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে।
তার পাশে গিয়ে দাড়ালো অহনা। তারপর নিরবতা, শুধু বৃষ্টি পরার শব্দ, আর মাঝে মাঝে মেঘের হালকা গর্জন। দুজনই পাশাপাশি দারিয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে।
★কিছুক্ষন পর স্পন্দন নিরবতা ভেঙে বললো…… ‘‘ জানো অহনা, বৃষ্টিটা অনেক সুন্দর, কারন তুমি আমার পাশে আছো ’’ অহনা আর থাকতে পারলো না। কাঁদতে কাঁদতে স্পন্দনের বুকে মুখ লুকালো। আর দুই টুনটুনির অভিমান বৃষ্টির মাঝে উড়ে গেলো ঐ মেঘলা আকাশে।
★এখন ওরা দুজন মনের আনন্দে বৃষ্টিবিলাশ করছে। যদিও অহনা জানে, বৃষ্টিতে বেশিক্ষন ভিজলে স্পন্দনের ঠান্ডা লেগে যায়,, তবুও আজ বাঁধা দেবে না। আজ তারও খুব ভালো লাগছে স্পন্দনের সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে। থাক না, করুক না আজ ওরা একটু বৃষ্টিবিলাশ।
★ভালো থাকুক স্পন্দন আর অহনার পবিত্র ভালোবাসা।
--- লেখক: আলো ছায়ার বিকাল(মো. শাহরিয়ার সিফাত)
No comments:
Post a Comment