Social Icons

Friday, 30 October 2015

"প্রস্থান"

★★আজ অনেককাল পর সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠতে
গিয়ে আমাদের ভীষন ক্লান্তি লাগে।
আমাদের ছোটবেলায়, মা যখন তার এমএ পড়া
নিয়ে ব্যস্ত, আমরা তখন নানাবাড়ি থাকতাম।
আমাদের পিতা তখন সরকারী চাকরীর
শাস্তি মাথায় নিয়ে বনে-বাদাড়ে ঘুরে
বেড়াচ্ছেন। তিনি মাঝে মাঝে বাড়ি এলে
আমরা আগেরবার যাকে 'বাবা' বলে জানতাম
তার চেহারা মনে করার প্রানপন চেষ্টা
করতাম। লাভবিশেষ না হলে, হয়ত আন্দাজের
ওপর দিয়েই 'বাবা, বাবা' বলে চালিয়ে
নিতাম।
সেই সময়ে, আমাদের মা যখন গাড়িঘোড়ায়
চড়ার চেষ্টা করছিলেন, আর পিতা যখন
ফেরারী, তখন আমাদের মধ্যবয়স্কা নানু
ডিমে তা দেয়ার মতন উষ্ণতায় আমাদের বড়
করতে লাগলেন।
নাইলে যে বিপদ। বাড়ির পেছনে পুকুরঘাট,
মাছ খেয়ে ফেলে যদি। বড়রাস্তায় চলে
গিয়ে ট্রাক চালানো শিখে যাই যদি। ডাব
খাবি? কাউকে দিয়ে ডাব পাড়িয়ে দিই।
মহিলা একহাতে পুরো সংসার সামলে
অন্যহাত আমাদের দিলেন। আমরা পরমানন্দে
বড় হতে থাকলাম। প্রতিদিন দু'একটা বাঁদর
এসে আমাদের কাছ থেকে নানান কসরত
শিখে যায়।
একদিনের মধ্যবয়স্কা আরেকদিনের বৃদ্ধা।
তাই তিনি যখন কোন সন্ধ্যায় আমাদের হাত
ধরে ধরে অল্প অল্প করে সিঁড়ি ভাঙ্গেন,
আমরা হঠাৎ করেই বুঝতে পারি, একে আমরা
চিনি না, এ অন্য কেউ। বয়সের
আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় হঠাৎ কুঁকড়ে
যাওয়া জীবন্ত পুতুল হয়ত।
সিঁড়ির পরের ধাপেই আমাদের মাথা চক্কর
দিয়ে ওঠে। তিনি আমাদের ধরে থাকেন না
আমরা তাদের, ঠিক বোঝা যায় না। আমাদের
চোখের সামনে বাড়ির পুকুর, বড়রাস্তা,
ঢ্যাঙ্গা নারিকেল গাছ, ভটভট শব্দ তোলা
বেবিট্যাক্সির বয়স বাড়তে থাকে, হঠাৎ
আমাদের শৈশব বৃদ্ধ হয়ে যায়। তার চোখে
ছানি পড়ে।
তখন আমাদের এই দুই পয়সার নষ্ট বুক ছিঁড়ে
ফেলে এই অচেনা বৃদ্ধাকে তার ভেতরে
ঢুকিয়ে নিয়ে একলাফে সবক'টা সিঁড়ি
ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছা হয়। আমাদের খুব ইচ্ছা
হয়।
আমরা পারি না।
---- ইমরান নিলয়

No comments:

Post a Comment

 
Blogger Templates